সুনামগঞ্জে কৃষি যন্ত্র কেলেঙ্কারি!

প্রকাশিত: ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২৫

মো. হাসান আলী (সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি):

সুনামগঞ্জে ধান কাটার যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) বরাদ্দের নামে সরকারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ভর্তুকি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা গেছে,২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩ ও ১৬ ডিএসিডিওএনজি নম্বরের দুটি কম্বাইন হারভেস্টার হস্তান্তরের কথা ছিল। এর মধ্যে একটি যন্ত্র সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোলেরগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দাই মিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহকারী কোম্পানির স্থানীয় কর্মকর্তারা কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই যন্ত্র সরবরাহের নামে নাটক সাজান। বরাদ্দকৃত যন্ত্রটি প্রকৃত কৃষকের কাছে হস্তান্তর না করে শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাইক্যারপাড় গ্রামের আরেক কৃষক মসদ্দর আলীর কাছে সরিয়ে দেন।

 

অভিযোগ রয়েছে,কোম্পানির সেলস ম্যানেজার মিনহাজ আহমদ,রিকভারি অফিসার আতিকুর রহমান আতিক এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারের কাছ থেকে দুই কৃষকের নামে দুটি যন্ত্র বরাদ্দ দেখিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ভর্তুকি আদায় করেন।

 

যন্ত্র না পেয়ে দীর্ঘদিন অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন কৃষক আব্দাই মিয়া। শেষমেশ তার ভাই শাহ আলম দিলোয়ার গত বুধবার কাইক্যারপাড় থেকে যন্ত্রটি উদ্ধার করেন। পরে কৃষি বিভাগের সহায়তায় প্রকৃত মালিকের কাছে যন্ত্রটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

তবে ঘটনার পর শাহ আলম দিলোয়ারের বিরুদ্ধে শান্তিগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলা করেন কোম্পানির রিকভারি অফিসার আতিক, যা কৃষক মহলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শাহ আলম অভিযোগ করেন,”আমাদের বরাদ্দের যন্ত্র আত্মসাৎ করে কোটি টাকার ভর্তুকি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সত্য প্রকাশ করায় আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।”

 

কাইক্যারপাড়ের কৃষক মসদ্দর আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ জানান,”আমাদের কাছেও পুরনো ও অকার্যকর যন্ত্র দিয়ে প্রতারণা করেছে কোম্পানি। এতে হাওরের মৌসুমে ধান কাটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”

 

এ বিষয়ে এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সেলস ম্যানেজার মিনহাজ আহমদ বলেন,”যন্ত্রটি কীভাবে অন্য কৃষকের হাতে গেল তা আমার জানা নেই।” তবে চুক্তি ছাড়াই যন্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কোনো সঠিক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

 

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম জানান,”বরাদ্দকৃত যন্ত্রটি কোথায় আছে তা আমরা জানতাম না। কৃষককে নোটিশ পাঠানোর পর অবশেষে যন্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা আজাদ বলেন,”এ ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।”

 

কেলেঙ্কারি:-

১) বরাদ্দের নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ভর্তুকি আত্মসাৎ। 

২) প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে যন্ত্র সরিয়ে প্রতারণা।  

৩) প্রতারণার প্রতিবাদ করায় কৃষকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানি মামলা।

৪) কোম্পানি ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ।

সিলেট প্রতিদিন/এসডি.