ধর্মীয় উৎসবে সেনাবাহিনীর সজাগ প্রহরা,পুণ্যার্থীর মনে নিরাপত্তার আস্থা

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৫

সত্যজিৎ দাস:

বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয়,বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। এখানে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নাগরিক তার নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলন স্বাধীনভাবে পালন করে থাকেন। আর এই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাঁরা সবসময়ই ছায়ার মতো পাশে থাকেন—তারা হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্যরা

 

সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত মহা অষ্টমী, বাসন্তী পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষ্যে সারাদেশজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালিত হয়েছে। এ শান্তির ছায়ার পেছনে ছড়িয়ে আছে সেনাবাহিনীর অদৃশ্য শ্রম, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব।

 

 

নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে মহা অষ্টমীর পুণ্যস্নানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষাধিক পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছেন। নদীর তীরজুড়ে ১৯টি ঘাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

 

প্রতিটি ঘাটে মোতায়েন ছিল পর্যাপ্ত সেনাসদস্য,যাঁরা জনসমাগম ব্যবস্থাপনা,যাতায়াত ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করেছেন। দিনরাত টহল,পর্যবেক্ষণ,চেকপোস্ট স্থাপন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার মতো কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

সারাদেশে; চট্টগ্রাম,কক্সবাজার,টাঙ্গাইল,বরিশাল,ঝালকাঠি, কুমিল্লা,চাঁদপুর,ঢাকা সহ বহু জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহা অষ্টমী ও বাসন্তী পূজার আয়োজন হয়। এসব পূজা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করেছে। পূজার নিরাপত্তায় টহল, পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভা,পুরোহিত ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময়—এসব কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি উৎসবকে করে তুলেছে আরও নিরাপদ ও আস্থাময়

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী নয়; তারা দেশের প্রতিটি সংকট ও উৎসবমুখর মুহূর্তে জাতির মানবিক সহায়তাকারী। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা,দুর্যোগে উদ্ধার কাজ,অবকাঠামো উন্নয়ন,স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক ভূমিকা—সব ক্ষেত্রেই সেনাবাহিনী প্রমাণ করে চলেছে তারা শুধু বন্দুকধারী নয়,বরং দেশের গর্বিত রক্ষক ও নীরব বন্ধু।

 

ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের মৌলিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। পুণ্যস্নানের ঘাটে ঘাটে কিংবা পূজা মণ্ডপের দ্বারে দ্বারে সেনাবাহিনীর প্রহরা যেন এক আস্থা,এক আশ্বাস—“আপনারা উৎসব করুন,আমরা আছি।”

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবারের মতো ভবিষ্যতেও দেশের প্রতিটি ধর্মীয় ও জাতীয় আয়োজনে সর্বাত্মক প্রস্তুতির সঙ্গে পাশে থাকবে- এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নিজেদের কর্মের মাধ্যমেই।

 

এই দায়িত্ববোধ,নিষ্ঠা ও মানবিকতা সেনাবাহিনীকেই শুধু শ্রদ্ধার জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেনি,বরং দেশের অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিশীল চেতনার প্রতীক হিসেবে তাঁদের অবস্থানকে করেছে আরও দৃঢ়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী—শুধু সীমানা রক্ষা নয়,জাতির আত্মবিশ্বাসের প্রহরী।

সিলেট প্রতিদিন/এসডি.