বড়লেখায় চা কুঁড়ির উৎসব

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২৫

হানিফ পারভেজ (বড়লেখা প্রতিনিধি):

বাংলাদেশের চা শিল্পে নতুন মৌসুমের সূচনা হয়েছে। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চা বাগানগুলোতে নতুন চা পাতার কুঁড়ি উত্তোলন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ তিন মাসের বিরতির পর পুনরায় চা উত্তোলন শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য

 

নিউ সমনবাগ চা বাগান,পাথারিয়া চা বাগানসহ বেশ কয়েকটি চা বাগানে নতুন কুঁড়ি সংগ্রহের কাজ চলছে পুরোদমে। চা গাছের প্রুর্ণিং (Pruning) বা ছাঁটাই প্রক্রিয়ার পর এই কুঁড়িগুলো তৈরি হয়। শ্রমিকদের আনন্দঘন পরিবেশে এই উত্তোলন কার্যক্রমের সূচনা করা হয় পূজা,আরতি ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ চা উৎপাদন অঞ্চল মৌলভীবাজার। এখানকার বড়লেখা উপজেলা দেশের মোট চা উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে। নতুন কুঁড়ি উত্তোলনের ফলে এবারও ভালো উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

 

নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. শাহিদ নেওয়াজ জানান,”প্রতি বছর শীত শেষে চা গাছে পুনিং করা হয়,যাতে নতুন কুঁড়ি দ্রুত গজায়। এবার আগাম বৃষ্টির কারণে গাছগুলোতে ভালো কুঁড়ি এসেছে এবং চা উত্তোলন আগেভাগেই শুরু হয়েছে।”

 

চা পাতা উত্তোলন শুরুর খবরে চা শ্রমিকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কন্দ মুন্ডা, সাধারণ সম্পাদক কালি প্রসাদ ভরসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা এই উত্তোলন কার্যক্রমে অংশ নেন। শ্রমিকদের মতে,নতুন মৌসুমের শুরুতে কাজের চাপ বাড়লেও এটি তাদের জীবিকা ও আয়ের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

 

এই বছর মার্চ-এপ্রিলে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় চা গাছে দ্রুত নতুন কুঁড়ি গজিয়েছে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

 

চা শ্রমিক কাজল সাঁওতাল বলেন,”নতুন পাতা উত্তোলন শুরু হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। আশা করছি,এবার ভালো বেতন পাবো।”

 

বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা বিশ্ববাজারে ক্রমাগত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে উন্নত চা কুঁড়ি উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণ জরুরি। বড়লেখার চা উৎপাদন ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

চা শিল্পের অগ্রগতিতে নতুন মৌসুমের ভূমিকা:

১) শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।

২) দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব।

৩) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি।

৪) চা শিল্পের সার্বিক উৎপাদন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের চা শিল্পের জন্য এই মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন চা পাতার গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়ানো গেলে এটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চা উৎপাদনের এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশকে চা শিল্পের বিশ্ববাজারে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে

সিলেট প্রতিদিন/এসডি.