বিধ্বস্ত মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর বোমা হামলা,জাতিসংঘের তীব্র নিন্দা সিলেট প্রতিদিন সিলেট প্রতিদিন প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৫ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হচ্ছে সামরিক বিমান হামলা। এমন পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও মানবতা-বিরোধী’ বলে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিবিসি বার্মিজের তথ্য অনুযায়ী,ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায়,শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান প্রদেশের নাউংচো এলাকায় এক বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বরাতে জানা গেছে,দেশটির উত্তর-পশ্চিম সাগাইং অঞ্চলের চ্যাং-ইউ শহরসহ থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকেও নিশানা করেছে সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান। বিস্ময়করভাবে,এসব অঞ্চলের কিছু এলাকাই ছিল ভয়াবহ ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১,৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন। ভবন,সেতু এবং রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সামরিক জান্তা সরকার। তবে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটে,পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুজ বলেন,”যখন গোটা বিশ্ব মিয়ানমারের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে,তখনই সেনাবাহিনী বোমা বর্ষণ করছে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর। এটা অকল্পনীয় ও অমানবিক।” তিনি আরও বলেন,”যারা জান্তা সরকারের ওপর প্রভাব রাখতে পারেন,তাদের এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষকে সব ধরণের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।” মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই এই ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলের চোখে এক গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বদলে বোমা বর্ষণ কতটা অমানবিক ও নিষ্ঠুর হতে পারে,মিয়ানমার যেন তারই নির্মম উদাহরণ। সিলেট প্রতিদিন/এসডি. সিলেট প্রতিদিনসত্যের খোঁজে প্রতিদিন Share this post: Facebook Twitter LinkedIn Pinterest WhatsApp আন্তর্জাতিক বিষয়: International NewsMyanmarNews updateSylhet PratidinTop news